কুরআনে ইহুদী খৃষ্টান দের বিশ্বাসের মূল উৎপাটন। আল্লাহর কোনো সন্তান নাই
Sura: 112, Ayat: 3
মুশরিকরা প্রতি যুগে খোদায়ীর এ ধারণা পোষণ করে এসেছে যে, মানুষের মতো খোদাদেরও একটি জাতি বা শ্রেণী আছে। তার সদস্য সংখ্যাও অনেক। তাদের মধ্যে বিয়ে-শাদী এবং বংশ বিস্তারের কাজও চলে। তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকেও এ জাহেলী ধারণা মুক্ত রাখেনি। তাঁর জন্য সন্তান-সন্ততিও ঠিক করে নিয়েছে। তাই কুরআন মজীদে আরববাসীদের আকীদা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তারা ফেরেশতাদেরকে মহান আল্লাহর কন্যা গণ্য করতো। তাদের জাহেলী চিন্তা নবীগণের উম্মাতদেরকেও সংরক্ষিত রাখেনি। তাদের মধ্যে নিজেদের সৎ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে আল্লাহর পুত্র গণ্য করার আকীদা জন্ম নেয়। এ বিভিন্ন ধরনের কাল্পনিক চিন্তা-বিশ্বাসের মধ্যে দুই ধরনের চিন্তা সবসময় মিশ্রিত হতে থেকেছে। কিছু লোক মনে করেছে, যাদেরকে তারা আল্লাহর সন্তান গণ্য করছে তারা সেই মহান পবিত্র সত্তার ঔরসজাত সন্তান। আবার কেউ কেউ দাবী করেছে, যাকে তারা আল্লাহর সন্তান বলছে, আল্লাহ তাকে নিজের পালকপুত্র বানিয়েছেন। যদিও তাদের কেউ কাউকে (মাআ’যাল্লাহ) আল্লাহর পিতা গণ্য করার সাহস করেনি। কিন্তু যখন কোন সত্তা সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে, তিনি সন্তান উৎপাদন ও বংশ বিস্তারের দায়িত্বমুক্ত নন এবং তাঁর সম্পর্কে ধারণা করা হয়, তিনি মানুষ জাতীয় এক ধরনের অস্তিত্ব, তাঁর ঔরসে সন্তান জন্মলাভ করে এবং অপুত্রক হলে তার কাউকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন মানুষের মন তাঁকেও কারো সন্তান মনে করার ধারণা মুক্ত থাকতে পারে না। এ কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল তার মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল, আল্লাহর বংশধারা কি? দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, কার কাছ থেকে তিনি দুনিয়ার উত্তরাধিকার লাভ করেছেন এবং তাঁর পরে এর উত্তরাধিকারী হবে কে?
এসব জাহেলী মূর্খতা প্রসূত ধারণা-কল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এগুলোকে যদি নীতিগতভাবে মেনে নিতে হয়, তাহলে আরো কিছু জিনিসকেও মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যেমনঃ
একঃ আল্লাহ এক নয়, বরং আল্লাহর কোন একটি জাতি ও গোষ্ঠী আছে। তাদের সদস্যরা আল্লাহর গুণাবলী, কার্যকলাপ ও কর্তৃত্ব-ক্ষমতায় তাঁর সাথে শরীক। আল্লাহর কেবলমাত্র ঔরসজাত সন্তান ধারণা করে নিলে এ বিষয়টি অপরিহার্য হয় না, বরং কাউকে পালকপুত্র হিসেবে ধারণা করে নিলেও এটি অপরিহার্য হয়। কেননা কারো পালকপুত্র অবশ্যি তারই সমজাতীয় ও সমগোত্রীয়ই হতে পারে। আর (মা’আযাল্লাহ) যখন সে আল্লাহর সমজাতীয় ও সমগোত্রীয় হয়, তখনই সে আল্লাহর গুণাবলী সম্পন্নও হবে, একথা অস্বীকার করা যেতে পারে না।
দুইঃ পুরুষ ও নারীর মিলন ছাড়া কোন সন্তানের ধারণা ও কল্পনা করা যেতে পারে না। বাপ ও মায়ের শরীর থেকে কোন জিনিস বের হয়ে সন্তানের রূপ লাভ করে----সন্তান বলতে একথাই বুঝায়। কাজেই এক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তান ধারণা করার ফলে (নাউযুবিল্লাহ) তাঁর একটি বস্তুগত ও শারীরিক অস্তিত্ব, তাঁর সমজাতীয় কোন স্ত্রীর অস্তিত্ব এবং তাঁর শরীর থেকে কোন বস্তু বের হওয়াও অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
তিনঃ সন্তান উৎপাদন ও বংশধারা চালাবার কথা যেখানে আসে সেখানে এর মূল কারণ হয় এই যে, ব্যক্তিরা হয় মরণশীল এবং তাদের জাতির ও গোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাদের সন্তান উৎপাদন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ, এ সন্তানদের সাহায্যেই তাদের বংশধারা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কাজেই আল্লাহর সন্তান আছে বলে মনে করলে (নাউযুবিল্লাহ) তিনি নিজে যে মরণশীল এবং তাঁর বংশ ও তাঁর নিজের সত্তা কোনটিই চিরন্তন নয় একথা মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া সমস্ত মরণশীল ব্যক্তির মতো (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহরও কোন শুরু ও শেষ আছে, একথাও মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। কারণ, সন্তান উৎপাদন ও বংশ বিস্তারের ওপর যেসব জাতি ও গোত্র নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাদের ব্যক্তিবর্গ অনাদি-অনন্তকালীন জীবনের অধিকারী হয় না।
চারঃ কারো পালকপুত্র বলবার উদ্দেশ্য এ হয় যে, একজন সন্তানহীন ব্যক্তি তার নিজের জীবনে কারো সাহায্যের এবং নিজের মৃত্যুর পর কোন উত্তারাধিকারের প্রয়োজন বোধ করে। কাজেই আল্লাহ কাউকে নিজের পুত্র বানিয়েছেন একথা মনে করা হলে সেই পবিত্র সত্তার সাথে এমন সব দুর্বলতা সংশ্লিষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যেগুলো মরণশীল মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়।
যদিও মহান আল্লাহকে “আহাদ” ও “আসসামাদ” বললে এসব উদ্ভট ধারণা-কল্পনার মূলে কুঠারাঘাত করা হয়, তবুও এরপর “না তাঁর কোন সন্তান আছে, না তিনি কারো সন্তান”---একথা বলায় এ ব্যাপারে আর কোন প্রকার সংশয়-সন্দেহের অবকাশই থাকে না। তারপর যেহেতু আল্লাহর মহান সত্তা সম্পর্কে এ ধরনের ধারণা-কল্পনা শিরকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই মহান আল্লাহ শুধুমাত্র সূরা ইখলাসেই এগুলোর দ্ব্যর্থহীন ও চূড়ান্ত প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়টিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। এভাবে লোকেরা সত্যকে পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হবে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ নীচের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারেঃ
“আল্লাহ-ই হচ্ছেন একমাত্র ইলাহ। কেউ তাঁর পুত্র হবে, এ অবস্থা থেকে তিনি মুক্ত-পাক-পবিত্র। যা কিছু আকাশসমূহের মধ্যে এবং যা কিছু যমীনের মধ্যে আছে, সবই তার মালিকানাধীন।” (আন নিসা, ১৭১)
“জেনে রাখো, এরা যে বলছে আল্লাহর সন্তান আছে, এটা এদের নিজেদের মনগড়া কথা। আসলে এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা।” (আস সাফফাত, ১৫১-১৫২)
“তারা আল্লাহ ও ফেরেশতাদের মধ্যে বংশীয় সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছে অথচ ফেরেশতারা ভালো করেই জানে এরা (অপরাধী হিসেবে) উপস্থাপিত হবে।” (আস সাফফাত, ১৫৮)
“লোকেরা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কাউকে তাঁর অংশ বানিয়ে ফেলেছে। আসলে মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।” (আয্ যুখরুফ, ১৫)
“আর লোকেরা জিনদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়েছে। অথচ তিনি তাদের স্রষ্টা। আর তারা না জেনে বুঝে তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তারা যে সমস্ত কথা বলে তা থেকে তিনি মুক্ত ও পবিত্র এবং তার উর্ধ্বে তিনি অবস্থান করছেন। তিনি তো আকাশসমূহ ও পৃথিবীর নির্মাতা। তাঁর পুত্র কেমন করে হতে পারে যখন তাঁর কোন সঙ্গিনী নেই? তিনি প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন।” (আল আন’আম, ১০০-১০১)
“আর তারা বললো, দয়াময় আল্লাহ কাউকে পুত্র বানিয়েছেন। তিনি পাক-পবিত্র। বরং (যাদেরকে এরা তাঁর সন্তান বলছে) তারা এমন সব বান্দা যাদেরকে মর্যাদা দান করা হয়েছে।” (আল আম্বিয়া, ২৬)
“লোকেরা বলে দিয়েছে, আল্লাহ কাউকে পুত্র বানিয়েছেন আল্লাহ পাক-পবিত্র! তিনি তো অমুখাপেক্ষী। আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর মালিকানাধীন। এ বক্তব্যের সপক্ষে তোমাদের প্রমাণ কি? তোমরা কি আল্লাহর সম্পর্কে এমনসব কথা বলছো, যা তোমরা জানো না?” (ইউনুস, ৬৮)
“আর হে নবী! বলে দাও, সেই আল্লাহর জন্য সব প্রশংসা যিনি না কাউকে পুত্র বানিয়েছেন, না বাদশাহীতে কেউ তাঁর শরীক আর না তিনি অক্ষম, যার ফলে কেউ হবে তাঁর পৃষ্ঠপোষক।” (বনী ইসরাঈল, ১১১)
“আল্লাহ কাউকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে দ্বিতীয় কোন ইলাহও নেই।” (আল মু’মিনূন, ৯১)
যারা আল্লাহর জন্য ঔরসজাত সন্তান অথবা পালকপুত্র গ্রহণ করার কথা বলে, এ আয়াতগুলোতে সর্বতোভাবে তাদের এহেন আকীদা-বিশ্বাসের প্রতিবাদ করা হয়েছে। এ আয়াতগুলো এবং এ বিষয়বস্তু সম্বলিত অন্য যে সমস্ত আয়াত কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়, সেগুলো সূরা ইখলাসের অতি চমৎকার ব্যাখ্যা।
Source: তাফহিমুল কুরআন
Tags: আল্লাহ
আল্লাহর তুলনা নাই
Sura: 112, Ayat: 4
মূলে বলা হয়েছে কুফূ এর মানে হচ্ছে নজীর, সদৃশ, সমান, সমমর্যাদা সম্পন্ন ও সমতুল্য। বিয়ের ব্যাপারে আমাদের দেশে কুফূ শব্দের ব্যবহার আছে। এক্ষেত্রে এর অর্থ হয়, সামাজিক মর্যাদার দিক দিয়ে ছেলের ও মেয়ের সমান পর্যায়ে অবস্থান করা। কাজেই এখানে এ আয়াতের মানে হচ্ছেঃ সারা বিশ্ব-জাহানের আল্লাহর সমকক্ষ অথবা তাঁর সমমর্যাদা সম্পন্ন কিংবা নিজের গুণাবলী, কর্ম ও ক্ষমতার ব্যাপারে তাঁর সমান পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে এমন কেউ কোনদিন ছিল না এবং কোন দিন হতেও পারবে না।
Source: তাফহিমুল কুরআন
Tags: আল্লাহ
আয়াত ২২:৪৭ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ১০০০ বছরের সমান। অথচ আয়াত ৭০:৪ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ৫০,০০০ বছরের সমান। অতএব, বিষয় দুটি সাংঘর্ষিক!
Sura: 22, Ayat: 47
আয়াত ২২:৪৭ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ১০০০ বছরের সমান। অথচ আয়াত ৭০:৪ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ৫০,০০০ বছরের সমান। অতএব, বিষয় দুটি সাংঘর্ষিক!
22.47: Verily a Day in the sight of thy Lord is like a thousand years of your reckoning.
70.4: The angels and the spirit ascend unto him in a Day the measure whereof is (as) fifty thousand years.
জবাব: প্রথমত, সূরা দুটি ভালো করে পড়লে যে কারো বুঝার কথা যে, দুটি বিষয়ের প্রসঙ্গ আলাদা। প্রথম আয়াতে মানুষের কথা বলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় আয়াতে অ্যাঞ্জেল ও স্পিরিটের কথা বলা হয়েছে। অতএব, কোনো অসঙ্গতি নেই। দ্বিতীয়ত, এক জায়গাতে ১০০০ আর অন্য জায়গাতে ৫০,০০০ লিখা থাকলেই সাংঘর্ষিক হয় না। ধরা যাক, কেউ দু’সময়ে দু’রকম বক্তব্য দিলেন: ১) আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছি ১ ঘন্টায়; ২) আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছি ১৬ ঘন্টায়। আপাতদৃষ্টিতে বক্তব্য দুটিকে সাংঘর্ষিক মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। কারণ প্রথম বক্তব্যে এরোপ্লেন এবং দ্বিতীয় বক্তব্যে ট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও যানবাহনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কোরআনের আয়াতগুলোতে এটাই বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, স্রষ্টার সময়ের সাথে পার্থিব সময়ের কোনো তুলনা হয় না। সেটা বুঝানোর জন্য কিছু উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।
Source: সদালাপ
Tags: কুরআনের-ভুল, অভিযোগ, কুরআনের-বিরুদ্ধে-অভিযোগ
আয়াত ২২:৪৭ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ১০০০ বছরের সমান। অথচ আয়াত ৭০:৪ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ৫০,০০০ বছরের সমান। অতএব, বিষয় দুটি সাংঘর্ষিক!
Sura: 70, Ayat: 4
আয়াত ২২:৪৭ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ১০০০ বছরের সমান। অথচ আয়াত ৭০:৪ অনুযায়ী আল্লাহর এক দিন আমাদের ৫০,০০০ বছরের সমান। অতএব, বিষয় দুটি সাংঘর্ষিক!
22.47: Verily a Day in the sight of thy Lord is like a thousand years of your reckoning.
70.4: The angels and the spirit ascend unto him in a Day the measure whereof is (as) fifty thousand years.
জবাব: প্রথমত, সূরা দুটি ভালো করে পড়লে যে কারো বুঝার কথা যে, দুটি বিষয়ের প্রসঙ্গ আলাদা। প্রথম আয়াতে মানুষের কথা বলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় আয়াতে অ্যাঞ্জেল ও স্পিরিটের কথা বলা হয়েছে। অতএব, কোনো অসঙ্গতি নেই। দ্বিতীয়ত, এক জায়গাতে ১০০০ আর অন্য জায়গাতে ৫০,০০০ লিখা থাকলেই সাংঘর্ষিক হয় না। ধরা যাক, কেউ দু’সময়ে দু’রকম বক্তব্য দিলেন: ১) আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছি ১ ঘন্টায়; ২) আমি ঢাকা থেকে কলকাতায় গিয়েছি ১৬ ঘন্টায়। আপাতদৃষ্টিতে বক্তব্য দুটিকে সাংঘর্ষিক মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। কারণ প্রথম বক্তব্যে এরোপ্লেন এবং দ্বিতীয় বক্তব্যে ট্রেন ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও যানবাহনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কোরআনের আয়াতগুলোতে এটাই বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, স্রষ্টার সময়ের সাথে পার্থিব সময়ের কোনো তুলনা হয় না। সেটা বুঝানোর জন্য কিছু উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।
Source: সদালাপ
Tags: কুরআনের-ভুল, অভিযোগ, কুরআনের-বিরুদ্ধে-অভিযোগ
সূরা ফাতিহা ভূমিকা
Sura: 1, Ayat: 0
নামকরণ
এ সূরার মূল বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য
রেখেই এর এই নামকরণ করা হয়েছে। যার
সাহায্যে কোন বিষয়, গ্রন্থ বা জিনিসের
উদ্বোধন করা হয় তাকে ‘ফাতিহা’ বলা হয়। অন্য
কথায় বলা যায়, এ শব্দটি ভূমিকা এবং বক্তব্য
শুরু করার অর্থ প্রকাশ করে।
নাযিল হওয়ার সময়-কাল
এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের নবুয়াত লাভের একেবারেই প্রথম
যুগের সূরা। বরং হাদীসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা
থেকে জানা যায়, এটিই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিলকৃত প্রথম
পূর্ণাঙ্গ সূরা। এর আগে মাত্র বিচ্ছিন্ন কিছু
আয়াত নাযিল হয়েছিল। সেগুলো সূরা ‘আলাক’,
সূরা ‘মুয্যাম্মিল’ ও সূরা ‘মুদ্দাস্সির’
ইত্যাদিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু
আসলে এ সূরাটি হচ্ছে একটি দোয়া। যে কোন
ব্যক্তি এ গ্রন্থটি পড়তে শুরু করলে আল্লাহ
প্রথমে তাকে এ দোয়াটি শিখিয়ে দেন।
গ্রন্থের শুরুতে এর স্থান দেয়ার অর্থই হচ্ছে এই
যে, যদি যথার্থই এ গ্রন্থ থেকে তুমি লাভবান
হতে চাও, তাহলে নিখিল বিশ্ব-জাহানের
মালিক আল্লাহর কাছে দোয়া এবং সাহায্য
প্রার্থনা করো।
মানুষের মনে যে বস্তুটির আকাংখা ও
চাহিদা থাকে স্বভাবত মানুষ সেটিই চায় এবং
সে জন্য দোয়া করে। আবার এমন অবস্থায় সে এই
দোয়া করে যখন অনুভব করে যে, যে সত্তার
কাছে সে দোয়া করছে তার আকাংখিত বস্তুটি
তারই কাছে আছে। কাজেই কুরআনের শুরুতে এই
দোয়ার শিক্ষা দিয়ে যেন মানুষকে জানিয়ে
দেয়া হয়েছে, সত্য পথের সন্ধান লাভের জন্য এ
গ্রন্থটি পড়, সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা নিয়ে
এর পাতা ওলটাও এবং নিখিল বিশ্ব-জাহানের
মালিক ও প্রভু আল্লাহ হচ্ছেন জ্ঞানের একমাত্র
উৎস--- একথা জেনে নিয়ে একমাত্র তাঁর
কাছেই পথনির্দেশনার আর্জি পেশ করেই এ
গ্রন্থটি পাঠের সূচনা কর।
এ বিষয়টি অনুধাবন করার পর একথা সুস্পষ্ট হয়ে
যায় যে, কুরআন ও সূরা ফাতিহার মধ্যকার আসল
সম্পর্ক কোন বই ও তার ভূমিকার সম্পর্কের
পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং এ সম্পর্কটি দোয়া ও
দোয়ার জবাবের পর্যায়ভুক্ত। সূরা ফাতিহা
বান্দার পক্ষ থেকে একটি দোয়া। আর কুরআন
তার জবাব আল্লাহর পক্ষ থেকে। বান্দা দোয়া
করে, হে মহান প্রভু! আমাকে পথ দেখাও।
জবাবে মহান প্রভু এই বলে সমগ্র কুরআন তার
সামনে রেখে দেন ____ এই নাও সেই
হিদায়াত ও পথের দিশা যে জন্য তুমি আমার
কাছে আবেদন জানিয়েছ।
Source: তাফহিমুল কুরআন
Tags: ফাতিহা, ভূমিকা, শানে নুজুল, নামকরণ
সূরা মুরসালাত এর ভূমিকা
Sura: 77, Ayat: 0
নামকরণ
প্রথম আয়াতের ﻭَﺍﻟۡﻤُﺮۡﺳَﻠٰﺖِ ﻋُﺮۡﻓًﺎۙ শব্দটিকেই
এ সূরার নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
নাযিল হওয়ার সময়-কাল
এ সূরার পুরো বিষয়বস্তু থেকে প্রকাশ পায়
যে, এটি মক্কী যুগের প্রথম দিকে নাযিল
হয়েছিল। এর আগের দু'টি সূরা আর্থাৎ সূরা
কিয়ামাহ ও সূরা দাহর এবং পরের দু'টি সূরা
অর্থাৎ সূরা আননাবা ও নাযি’আত যদি এর সাথে
মিলিয়ে পড়া যায় তাহলে পরিষ্কার বুঝা যায়
যে, এ সূরাগুলো সব একই যুগে অবতীর্ণ।আর এর
বিষয়বস্তুও একই যা বিভিন্ন ভংগিতে উপস্থাপন
করে মক্কাবাসীদের মন-মগজে বদ্ধমূল করা
হয়েছে।
বিষয়বস্তু ও মূলবক্তব্য
এর বিষয়বস্তু কিয়ামত ও আখেরাতকে প্রমাণ
করা এবং এ সত্যকে অস্বীকার করলে কিংবা
মেনে নিলে পরিণামের যেসব ফলাফল প্রকাশ
পাবে সে বিষয়ে মক্কাবাসীদের সচেতন করে
দেয়া।
কুরআন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে খবর
দিচ্ছেন তা যে অবশ্যই হবে প্রথম সাতটি আয়াত
বাতাসের ব্যবস্থাপনাকে তার সত্যতা ও
বাস্তবতার সপক্ষে সাক্ষ্যী হিসেবে পেশ করা
হয়েছে। এতে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে যে, যে
অসীম ক্ষমতশালী সত্তা পৃথিবীতে এ বিস্ময়কর
ব্যবস্থাপনা কায়েম করেছেন তাঁর শক্তি
কিয়ামত সংঘটিত করতে অক্ষম হতে পারে না।
আর যে স্পষ্ট যুক্তি ও কৌশল এ ব্যবস্থাপনার
পেছনে কাজ করছে তাও প্রমাণ করে যে,
আখেরাত অবশ্যই সংঘটিত হওয়া উচিত। কারণ
পরম কুশলী স্রষ্টার কোন কাজই নিরর্থক ও
উদ্দেশ্যহীন হতে পারে না। আখেরাত যদি না
থাকে তাহলে এর অর্থ হলো, এ গোটা বিশ্ব-
জাহান একেবারেই উদ্দেশ্যহীন।
মক্কাবাসীরা বারবার বলতো যে, তুমি
আমাদের যে কিয়ামতের ভয় দেখাচ্ছো তা
এনে দেখাও। তাহলে আমরা তা মেনে নেব। ৮
থেকে ১৫ আয়াতে তাদের এ দাবীর উল্লেখ না
করে এ বলে তার জবাব দেয়া হয়েছে যে, তা
কোন খেলা বা তামাশার বস্তু নয় যে, যখনই
কোন ঠাট্টাবাজ বা ভাঁড় তা দেখানোর
দাবী করবে তখনই তা দেখিয়ে দেয়া হবে।
সেটা তো মানব জাতি ও তার প্রতিটি
সদস্যের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালার দিন। সে
জন্য আল্লাহ তা'আলা একটি বিশেষ সময় ঠিক
করে রেখেছেন। ঠিক সে সময়ই তা সংঘটিত
হবে। আর যখন তা আসবে তখন এমন ভয়ানক রূপ
নিয়ে আসবে যে, আজ যারা ঠাট্টা-বিদ্রুপের
ভংগিতে তার দাবী করছে সে সময় তারা
দিশেহারা ও অস্থির হয়ে পড়বে।তখন ঐসব
রসূলগণের সাক্ষ্য অনুসারেই এদের মোকদ্দমার
ফায়সালা হবে, যাদের দেয়া খবরকে এসব
আল্লাহদ্রোহী আজ অত্যন্ত নিঃশঙ্কচিত্তে
মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।অতপর তারা
নিজেরাই জানতে পারবে যে, কিভাবে তারা
নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের আয়োজন
করেছে।
১৬ থেকে ১৮ আয়াত পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে
কিয়ামত ও আখেরাত সংঘটিত হওয়া এবং তার
অনিবার্যতার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। এসব
আয়াতে বলা হয়েছে যে, মানুষের নিজের
ইতিহাস, তার জন্ম এবং যে পৃথিবীতে সে
জীবন যাপন করেছে তার গঠন, আকৃতি ও
বিন্যাস, সাক্ষ্য পেশ করছে যে, কিয়ামতের
আসা এবং আখেরাত অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব এবং
আল্লাহ তা'আলার প্রাজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার
দাবীও বটে। মানুষের ইতিহাস বলছে, যেসব
জাতিই আখেরাত অস্বীকার করেছে পরিণামে
তারা বিপথগামী হয়েছে এবং ধ্বংস হয়ে
গিয়েছে। এর অর্থ হলো, আখেরাত এমন একটি
সত্য যে, যে জাতিরই আচার-আচরণ ও রীতি-
নীতি এর বিপরীত হবে তার পরিণাম হবে সেই
অন্ধের মত যে সামনেরর দিক থেকে দ্রুত
এগিয়ে আসা গাড়ীর দিকে বল্গাহারার মত
এগিয়ে যাচ্ছে। এর আরো একটি অর্থ হলো,
বিশ্ব-সম্রাজ্যের মধ্যে শুধু প্রাকৃতিক আইন
(Physical Law, কার্যকর নয়, বরং একটি নৈতিক
আইনও (Moral Law, এখানে কার্যকর রয়েছে। আর
এ বিধান অনুসারে এ পৃথিবীতেও কাজের
প্রতিদান দেয়ার সিলসিলা বা ধারা চালু
আছে। কিন্তু দুনিয়ার এ জীবনে প্রতিদানের এ
বিধান যেহেতু পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হতে
পারছে না। তাই বিশ্ব-জাহানের নৈতিক
বিধান অনিবার্যভাবেই দাবী করে যে, এমন
একটি সময় আসা উচিত যখন তা পুরোপুরি
বাস্তাবায়িত হবে এবং সেসব ভাল ও মন্দের
যথোপযুক্ত প্রতিদান বা শাস্তি দেয়া হবে যা
এখানে উপযুক্ত প্রতিদান বা পুরষ্কার থেকে
বঞ্চিত হয়েছিল বা শাস্তি থেকে বেঁচে
গিয়েছিল। এর জন্য মৃত্যুর পরে আরেকটি জীবন
হওয়া অপরিহার্য। মানুষ দুনিয়ায় যেভাবে
জন্মলাভ করে সে বিষয়ে যদি সে চিন্তা-
ভাবনা করে তাহলে তার বিবেক-বুদ্ধি-অবশ্য
যদি সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি থাকে- এ বিষয়টি
অস্বীকার করতে পারে না যে, যে আল্লাহ
নগণ্য বীর্য দ্বারা মানুষ সৃষ্টির সূচনা করে
তাকে পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপান্তরিত করেছেন যে
পৃথিবীতে বাস করে মৃত্যুর পর তার শরীরের
বিভিন্ন অংশ সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়
না। বরং তার দেহের এক একটি অণূ পরমাণু এ
পৃথিবীতেই বিদ্যমান থাকে। পৃথিবীর এ মাটির
ভাণ্ডার থেকেই সে সৃষ্টি হয়, বেড়ে উঠে ও
লালিত-পালিত হয় এবং পুনরায় সে পৃথিবীর
মাটির ভাণ্ডারেই গচ্ছিত হয়।যে আল্লাহ
মাটির এ ভাণ্ডার থেকে প্রথমবার তাকে বের
করেছিলেন তাতে মিশে যাওয়ার পর তিনি
তাকে পুনরায় বের করে আনতে সক্ষম। তাঁর
যুক্তি ও কৌশল সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলে
তোমরা এ বিষয়টিও অস্বীকার করতে পারবে
না যে, পৃথিবীতে যে ক্ষমতা ও ইখতিয়ার
তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার সঠিক ও ভুল
প্রয়োগের হিসাব-নিকাশ নেয়াও
নিশ্চিনভাবেই তাঁর বিচক্ষণতা ও বিজ্ঞতার
দাবী এবং বিনা হিসেবে ছেড়ে দেয়াও তার
যুক্তি ও কৌশলের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এরপর
২৮থেকে ৪০ পর্যন্ত আয়াতে আখেরাত
অস্বীকারকারীদের পরিণাম বর্ণনা করা
হয়েছে। ৪১ থেকে ৪৫ আয়াত পর্যন্ত সেসব
লোকের পরিণাম বর্ণনা করা হয়েছে, যারা
আখেরাতের ওপর ঈমান এনে দুনিয়ায় থেকেই
নিজেদের পরিণাম গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা
করেছে। তারা আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-
ধারণা, নৈতিক চরিত্র ও কাজ-কর্ম এবং
নিজের জীবন ও কর্মের সমস্ত মন্দ দিক থেকে
দূরে অবস্থান করেছে যা মানুষের দুনিয়ার
আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করলেও পরিণামকে
ধ্বংস করে।
সবশেষে যারা আখেরাতকে অস্বীকার করে
এবং আল্লাহর বন্দেগী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়
তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, দুনিয়ার
এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে যত আমোদ-ফূর্তি করতে
চাও, করে নাও। শেষ অবধি তোমাদের
পরিণাম হবে অত্যন্ত ধ্বংসকর। বক্তব্যের
সমাপ্তি টানা হয়েছে এই বলে যে, কুরআনের
মাধ্যমেও যে ব্যক্তি হিদায়াত লাভ করতে
পারে না তাকে দুনিয়ার কোন জিনিসই
হিদায়াত দান করতে সক্ষম নয়।
Source: তাফহিমুল কুরআন
Tags: মুরসালাত, ভূমিকা, শানে নুজুল, নামকরণ